এই মাটি, ঢেউয়ে ঢেউয়ে সমুদ্র দিয়েছে-- টোলঘর, ঝাউবীথি ও কোকের পাহাড়ে বিলি কেটে আজ তার সমূহে নেমেছি, ভেজা ও চলনক্ষম বালিতে বালিতে, দূর সব দিগন্ত-আমোদী রচনায়, নিখিল সংগীতে
সমুদ্রজলের গর্জন আসলে এক নীরবতা, মনে এসে মিশে গূঢ় মন, দূরের জাহাজ, দেহে খসে আরদেহ রতি, উড়ন্ত চিলের পালক
ফেনাময় সমুদ্রপাড়ায় কোনো বিয়ারের ক্যান খোলা হলে, প্রথম সাপোর্ট আসে সমুদ্র থেকেই, জলের বর্তিত গতি মনে হয় বয়ে চলে লোকহিতব্রতে
২.
বিদেশ-বিভুঁ’য়ে এই লাভ হলো-- গর্জনশীলা এক সমুদ্র পেয়েছি বুকে, তার ওপরে হাওয়া, অফুরান শীৎকার
আদি পৃথিবীর স্যুভেনির বয়ে আনে এই বিশালতা, কুড়িয়ে-বাড়িয়ে সেসব জমা করে রেখে দেই বিশাল তোমার নামে, বিশালের নামে নিবেদিত এইসব ভালো, এই মন্দ, সূর্য সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢেউয়ে ঢেউয়ে বহুকাল নৃত্য করে যাবে
৩.
বিশালতা কাকে বলে বুঝেছি সমুদ্রে নেমে, পৃথিবীর তিনভাগ জল মানে কত বারি বুঝেছি সেটাও, তবুও সাহস করি অনুভবে অতল ছোঁবার
দূরত্ব আসলে খুব কম তোমার সাথে আমার, মাঝখানে বয়ে গেছে ছোট নাফ নদী, অভিমান মোটে এই একটিই
বিশালতা বুঝি বলে বড়োর ছোটত্ব বুঝি, ফাঁকি বুঝি, ভেতরে যে মন থাকে, সেও-তো তিনভাগের চেয়ে বেশি জায়গা জুড়ে আমার, কখনো তুমি তা জেনেছিলে
আমি তো পাখির বড়োত্ব মেপেছি চিরকাল, আকাশের বাটখারা দিয়ে
Jan 26, 2008
সমুদ্রে
Posted by
মুজিব মেহদী
at
1/26/2008
1 comments
বসন্তভ্রমণ
বসন্তকালীন অপরাহ্ণে নদীর এপার-ওপার হচ্ছে ফাল্গুন মাস, পাশেই দু’টি বালকের মধ্যে ঢিল খেলা হচ্ছে বিস্তর, একজন নিচ থেকে ওপরে, ওপর থেকে নিচে আরেকজন, আমি দেখলাম নিচ থেকে ঢিল দেয়া বড়ো কঠিন কাজ, যে সূত্র সব সেক্টরেই কমবেশি প্রযোজ্য হতে পারে
এদিক দিয়ে নিশ্চয়ই পথ গড়ে উঠেছে বিকল্প কোনো, পাথরের উপরে দাঁড়িয়ে যে মহিলা চুটিয়ে করছে স্নান, ওকে জিজ্ঞেস করে দেখব কি পথ কোনদিকে, কেননা আটকে গেছি, বিশ্বজনের ব্যবহৃত জল আসছে ধেয়ে বর্জ্যপ্রণালিযোগে, বিশ্বজনের পানের কৌটো, বার্থকন্ট্রোল পিল, বিশ্বজনের পরিত্যক্ত গামছা ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, পুঁটিমাছ খলবল করে এখানেই বেশি, বড়শিঅলারাও তাই ড্রেনের কাছে থাকে বেশি বেশি, চারপাশে লাল লাল বসন্ত ছড়িয়ে আছে মাত্রাহীনভাবে, এর মাঝে পুঁটিমাছের সূর্যের সাথে খেলা করা দেখি আমি, আমারও বসন্ত বলে
আমি জলকে ছুঁয়ে দিতে পারি জল আমাকে পারে না, এই বাক্য সমুদ্র অভিধানে নেই, আছে শুধু নদী অভিধানে, পৃথিবীতে নদী আছে বুড়ো-হাবড়া যত, সার সার স্কেলিটন নিয়ে তার পাড় জুড়ে জড়ো করা আছে ঢের পরিহাস, ওটা কী গাছ তবু মড়া গরুর হাড়ের পাশে জন্মেছে নদীতে, পুঁটিমাছ জানা থাকলে বল, রোদে বসা ছিল আর মাত্র চলে গেল ওটা কি শঙ্খচূড় নাকি হেলুসিনেশন এই নারকেল বনে
মরানদে বুদ্বুদ বেশি ওঠে কাইক্বা মাছের এই কথা ভালো করে জানা, যেহেতু সে নদীবাসী, বালিহাঁসের যদি না-হবে ওটা তবে কীসের পালক, অত সাদা, আরেকটা ঝলক সাথে ওটা তবে কীসের পালক বলো উড়ে এসে পড়ল মাটিতে, পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এই তবে বিকল্প পথ, খুরের দাগ দেখে ভ্রম হয় শেয়াল উদ্বোধিত, গাছালির ফাঁকে
একটি বালকের সাথে দু’টি বালিকা থাকা চলবে না, এ ঘোষণা নিয়ে যারা রাজপথ কাঁপাতে চেয়েছিল একদিন, কী জবাব দেবে তারা আজ নদীতীরে এসে, যেথা তিনটি মাত্র মেয়ে ঘিরে ছেলে হলো দু’দলে তিরিশ, টিজ করছে ওরা দলেবলে পালটাপালটি করে, এই ত্যাঁদড়গুলোর জন্যেই ঘটে নদীপারে অকারেন্স বহু, নিতিদিন, তবু এই টিজিংয়ের যতি টানা হবে না আমার, একা কেউ টিনএজ ঢেউয়ের সাথে পারে না পাল্লা দিতে, অস্তোন্মুখ সূর্যের প্রাণ কেড়ে নেয়া লালিমায়, গামছা ধোয়া জলেরও সাধ্যি নেই একথার অন্যথা বলে
অপমান জেনেও যারা সহজে হজম করে ছাইপাশ, তাদের দলবল বরাবর ভারী হয়, এদের থেকে দূরে লাল লাল ভরা ফাল্গুনে একা হয়ে থেকে যাওয়া ঢের ভালো, ফিরে আসি তাই, কিছু দেবার যদিও বাকি রয়ে যায় কিছুটা নেবারও, ফিরে আসি, কেননা ওইসব মুখরতা অর্থহীন বড়ো, মনেপ্রাণে মিশে যেতে পারি না যেসবে
যেখানে মুখরতা সেখানেই প্রাণ জানি, তবু, যেখানে নীরবতা সৃজন তো সেখানেই শুধু, আর নীরবতা মানে তো কেবল শব্দহীনতা নয়, মেডিট্যাড করা গেলে ভিড়ের মাঝেও নীরবতার সাথে ঘটে যেতে পারে এক জ্যান্ত মোলাকাত, নাতিশীতোষ্ণ, আমি জানি
Posted by
মুজিব মেহদী
at
1/26/2008
0
comments
মূলে ফিরে মুকুরের খোঁজে
ভবিতব্য ভেবে ভেবে এই যেভাবে দিনকে চড়িয়ে দিচ্ছি রাতের ওপরে আর রাতকে চাঁদের-- তোমাকে আমূল সে রন্ধনপ্রণালি জানাতে হলে আমাকে ঠিক উলটোটা খেলে যেতে হবে, কেননা তুমিও নও কোনো আগামীর দূত, ভবিরূপবাহী
খেলা খেলা এই জীবনের ভারে শরীরের ডালসব খেতজাঙালের নরম মাটির দিকে হেলে থেকে কষে যাচ্ছে পাটীগণিতের সব বই-- জীবন কতটা ভুলে সমাহৃত, কতটা ঘৃণার বিপরীতে একেকটা চলনসই ভালোবাসার বদ্বীপ জেগে ওঠে, এ হিসেব কোনোদিন মিলেও মেলে না
সবুজের কাছে শুয়ে থেকে একটা পুরো জীবন পার করে দেয়া গেলে বোঝা যেত, প্রকৃতি থেকে পাওয়া প্রাণশক্তিটুকু মানুষের দেহে-মনে কীরকম কাজে লাগে, একজন গ্রন্থকীট ভেষজবিজ্ঞানী জানি তার টিকিটাও স্পর্শ করে যেতে পারে না একজীবনে
এহ্ বাহ্য
Posted by
মুজিব মেহদী
at
1/26/2008
0
comments
বিমূর্ততা বিষয়ক
বিমূর্ততার বীজ নিহিত থাকে মূর্ত করতে না-পারার মধ্যে, এই না-পারা সূচিত করা উপসর্গগুলো প্রধানত অক্ষমতা অনাগ্রহ ও সীমাবদ্ধতার চূড়ায় চূড়ায় আভিজাত্যের রূপমহিমা নিয়ে সমাহিত থাকে
বিমূর্ততা হলো ঝলকের মালা আলো নয়, কোরাসের চূড়া সুর নয়, দেখতে এটি হতে পারে কিছুই না-এর মতো, অথবা ঠিক অনেক কিছুর মতো
বিমূর্ততা নিজাধীন চিন্তাসরণি, ভাবনাগোড়ামিহীন, যেদিকে ভাবনা যায় চলে যাওয়া চলে, আদর্শ বিমূর্ত হলো গোলআলুর মতো, বিমূর্ত আদর্শ হলো শৌখিন দূরবাস
বিমূর্ততা অতএব নন্দনের প্রগতি, প্রগতির নন্দন হলো অকাট্য মূর্ততা
Posted by
মুজিব মেহদী
at
1/26/2008
0
comments
স্বপ্নপুরাণ
পৃথিবীতে যতজন মানুষ আকাশতল্লাটে ততটাই তারা, একটা তারা জন্মায় একজন মানুষ জন্মের সাথে সাথে, একটা তারা ঝরে একজন মানুষ মৃত্যুর সাথে সাথে
প্রতিটা তারাতে থাকে এক স্বপ্নদেবতা, তারকার গায়ে যত আলো দেখি, সব ওই দেবতারই দ্যুতি, সন্ধ্যার নিকটবর্তী হতে হতে পৃথিবী যখন ক্রমে ডুবে অন্ধকারে, একে একে স্বপ্নদেবতারা নিচে লোকালয়ের খুব কাছে এসে জড়ো হয়, এসময় তারা জোনাকির রূপ ধরে ঝোপে-জঙ্গলে থাকতে ভালোবাসে, যে কেউ যখনই ঘুমিয়ে যায়, অ্যাসাইন্ড যে স্বপ্নদেবতা তার, চুপিসারে প্রবেশ করে ঠিক মস্তিষ্ক গভীরে, তারপর বহনকৃত স্বপ্নসিডি বাজায় নিচুস্বরে এবং সিডি ফুরিয়ে গেলে যথারীতি আকাশে ফিরে গিয়ে আলোক ছড়ায়
কার দেবতা বাজাবে কেমন সিডি, তার ওপরে হাত আছে মানুষেরই কাঙ্ক্ষার, যা অভিজ্ঞতা বা উপলব্ধিতে নেই, এমনকি যাকে নিয়ে ছড়ায় নি চিন্তাও ডালপাতা, দেবতা বাজায় না কখনো তেমন সিডি, মানুষের এঁকে দেয়া সীমানায়ই ঘুরেফিরে দেবতারা, দেবতাও এখানে এসে মানুষের অধীন, জয় হোক মানবজাতির
শেষরাত পর্যন্ত কিছু তারাকে আকাশেই থেকে যেতে দেখা যায়, আসলে ওইসব স্বপ্নদেবতার যারা টার্গেট পিপল, তারা তখনো জেগে থাকে সে দেশে দিন বলে, একজনের দেবতা অন্যে প্রবেশ করে না কখনো, পৃথিবীর সকল মানুষ যদি ঘুমাত একসাথে, আকাশে তখন কোনো তারা থাকত না, পৃথিবী গোল বলে রাত-দিন সবদেশে আসে না একসাথে, একদেশে রাত এলে আরদেশে দিন, সব রাতে কিছু তারা আকাশেই থেকে যায় তাই
Posted by
মুজিব মেহদী
at
1/26/2008
0
comments
ফেইসবুক প্রতীক
ওয়েবগ্রুপ
|
|
| কবিতাকথা |
| Visit this group |
